তাড়াতাড়ি বিয়ে করার উপকারিতা

বিয়েকে সহজ করুণ, দেখবেন সমাজ থেকে অনেক জেনা-ব্যাবিচার কমে যাবে। অশ্লীলতা ও ধর্ষণ কমে যাবে

তাড়াতাড়ি বিয়ে করার উপকারিতা

বিয়েকে কঠিন করে ফেলা হচ্ছে। আর যেনাকে সহজ করে দিচ্ছে। এই সমাজ থেকে আমরা ভাল কিছু পাচ্ছি না। এই সমাজ আমাদেরকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার কারণ হল একটাই, সেটা হল বিয়ে।

আমাদের সমাজে বিয়ে করতে হলে আপনাকে অনেক কঠিন পরিক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। আর এই কঠিন পরিক্ষার জন্য দায়ী আমাদের সমাজ ও আমাদের পরিবার। কীভাবে দায়ী, চলুন একটু জেনে নিই।

ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে, কিন্ত ছেলেকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ ছেলেটা ছোট। তাকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে, গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করতে হবে। তাকে টাকা-পয়সার মালিক হতে হবে। কিন্তু এই গ্র‍্যাজুয়েশন, চাকরি, টাকা-পয়সার মালিক হতে হতে সে প্রায় ২৮-৩০ বছরে পদার্পণ করে। অথচ তার যৌবন শুরু হয়েছে ১৫-১৬ বছর বয়সে।

এখন সে বাকি ১৩-১৫ বছর কীভাবে থাকবে। সে কি পারবে তার যৌবনের যৌন চাহিদাকে সামলে রাখতে। কিন্তু যখন সে তা পারছে না, তখন তার অন্য মেয়ের সাথে ফ্রী মিক্সিং, প্রেম-ভালোবাসা ও বিভিন্ন অবৈধ শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে। যা তাকে ধীরে ধীরে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মেয়েদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেই রকম। একটি মেয়ে ১৪-১৫ বছর বয়সে সাবালিকা হয়। অর্থাৎ তখন তার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনেক বেশী। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের যৌন চাহিদা একটু বেশীই। সেই ক্ষেত্রে একটি মেয়ের যদি ২৫-২৬  বছর বয়সে বিয়ে হয় তাহলে সে কীভাবে তা যৌন চাহিদা পূরণ করবে। তার তো উচিত আরো আগে বিয়ে করা। কিন্তু সমাজ ও পরিবার বলে মেয়ে ছোট, তার বিয়ের বয়স হয়নি। অথছ সে ঠিক ১৫ বছর বয়সে একাধিক প্রেম, মেলা-মেশা, করে থাকে। এটা হয়তো সাভাবিক। কিন্ত এভাবে তো সে গুনাহের ভাগিদার হচ্ছে। সাথে তার পিতামাথাও।

তাই আমাদের উচিত, ছেলে-মেয়ের বিয়ের বয়স হলে, এবং অন্য কোন অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার আগেই তাকে বিয়ে করিয়ে দেওয়া। আর তাড়াতাড়ি বিয়ে করলে অনেক উপকারিতাও আছে। নিচে এ বিষয়ে আরও আলোচনা করা হলোঃ-

বিয়ে করার উপকারিতাঃ- আল্লাহ তা'আল বলেন, তোমরা বিয়ে করো, তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমি আল্লাহর...!! তোমরা অভাবে আছো, আমি অভাব দূর করে দেব। আল্লাহ তা'আলা  বলেন তোমরা ধনী হতে চাও তাহলে বিয়ে করো।

 

আবার রাসুল (সা.) বলেছেন,

তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তায়ালার জন্য কর্তব্য হয়ে যায়। যেমনঃ-

  • আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় জিহাদকারী
  • চুক্তিবদ্ধ গোলাম যে তার মনিবকে চুক্তি অনুযায়ী সম্পদ আদায় করে মুক্ত হতে চায়। এবং
  • ওই বিবাহিত ব্যক্তি যে (বিবাহ করার মাধ্যমে) পবিত্র থাকতে চায়।

(তিরমিজি-১৬৫৫, নাসায়ি-৩২১৮, ৩১২০, সহিহ ইবনে হিব্বান-৪০৩০, বায়হাকি, সুনানুল)

অল্প বয়সে বিয়ে করলে রোমান্টিকতার বহু সময় পাওয়া যায়। জীবনকে উপভোগ করা যায়। বহু ধরনের অন্যায় কাজ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিয়ের মাধ্যমে অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ হয়। আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে ভাল যেই কাজই করেন তার সবকিছুতেই আল্লাহ তা'আলা সওয়াব রেখেছেন। তাই কেন এতো বিয়ে করতে দেরি,,,,!!

আল্লাহ তো অফার দিয়েই রেখেছেন। আল্লাহ তোমাকে বড়লোক বানিয়ে দেবেন তার ওয়াদা দিয়েছেন। শুধু খামাখা কেন দেরি করছেন। যৌবন শুরু হয়েছে, আল্লাহর দেয়া বিশাল অফারটাকে গ্রহণ করুন।

এছাড়া বিয়ের মাধ্যমে আপনি সবচেয়ে বেশী যেই উপকারীতা পাবেন তা নিচে তুলে ধরা হলোঃ-

  • লজ্জা স্থানের হেফাজত হয়
  • বিবাহ চক্ষু নিচু করে
  • তাড়াতাড়ি ধনি হওয়া যায়
  • ইমান পরিপূর্ণ হয়
  • অসুস্থতা দূর হয়
  • ইবাদতে মজা পাওয়া যায়
  • ল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়
  • মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়। এমন তৃপ্তি যেটা শুধু নিজের বউয়ের কাছে পাবেন। অন্যথায় যেনা করতে গিয়েও তা পাবেন না।
  • মেজাস ঠান্ডা থাকে। মাথা কখনো হট হবেনা
  • যৌবনের ক্ষুদা নিবারণ হয়। এছাড়া আরোও অনেক উপকারিতা আছে...!

তাই বিয়েকে সহজ করুণ, দেখবেন সমাজ থেকে অনেক জেনা-ব্যাবিচার কমে যাবে। অশ্লীলতা ও ধর্ষণ কমে যাবে। 

তাই ছেলেমেয়েদের অভিবাবকদের বলি অল্প বয়সে ছেলে মেয়ে বিয়ে করান। সরকারি চাকরি বাদ দেন,আগে দেখুন ছেলে মানুষ কিনা এবং তার দ্বীনদারিত্ব   দেখুন, তার সাথে বিয়ে দেন। ইনশাআল্লাহ  ফায়দাবান হবেন।