ফজরের নামাজ আদায়ের পর ঘুমিয়ে যাওয়া আমাদের একটা বদ অভ্যাস

যুক্তরাজ্যের ৪ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, গবেষণায় দেখা যায় সাকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার কারণে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক জটিলতার শিকার হতে হয়।

ফজরের নামাজ আদায়ের পর ঘুমিয়ে যাওয়া আমাদের একটা বদ অভ্যাস
ফজরের নামাজ আদায়ের পর আমাদের একটা বদ অভ্যাস আছে : দৌড়ে বাড়িতে কিংবা নিজ বাসস্থানে গিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া ।‌ সেটা আটটা কিংবা নয়টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কেউবা সুযোগ পেলে বেলা দশটা/এগারোটা । অনেককে দেখা যায়, সকালে না ঘুমালে তাঁদের মাথা ঠিক থাকে না। এটা একধরণের নেশাও বলতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের ৪ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, গবেষণায় দেখা যায় সাকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার কারণে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক জটিলতার শিকার হতে হয়।
বিজ্ঞানীরা এ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য চার ধরণের মানুষকে বেছে নিয়েছেন। যারা প্রতিদিন নিয়মিত সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে দেরি করে ঘুমান এবং যারা প্রতিরাতে নিয়মিত রাত জাগেন। এই চারটি ক্যাটাগরিতে থাকা অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৩৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে।
পরে এই গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক ক্রোনবায়োলজি জার্নালে প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় যে ব্যক্তি নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তার গড় আয়ু রাতজাগা ব্যক্তিদের থেকে সাড়ে ছয় বছর বেশি।
তবে এর সঙ্গে ব্যক্তির বয়স , লিঙ্গ, গোত্র, ওজন, আর্থসামাজিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় জড়িত। এই সবগুলো বিষয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেব শেষেই দেখা যায়, সকাল বেলায় যারা ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের অকাল মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম। আর যাদের দেহঘড়ি অনিয়মে চলে তাদের এই ঝুঁকি বাড়তেই থাকে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ভোরে ঘুম ভাঙে, তারা বেশি সুখী হন। এই সুখ স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং সারাটা জীবন ধরেই সুখ ছুঁয়ে যায়।
তাই, আমাদের জন্য জরুরী হলো , সাথে সাথেই না ঘুমিয়ে ফজরের পর একটু পায়চারি করা। দৌড়াদৌড়ি করা। এককথায় শরীরচর্চা করা । ডাক্তাররা সাত-সকাল পর্যাপ্ত পানি পান করার সাজেশন দিয়ে থাকেন। তাই পানি পান করুন। সকালের স্নিগ্ধ আবহাওয়া, মনোরম পরিবেশ ও মৃদু ঠাণ্ডা বাতাসে আপনার মন হবে সতেজ। নিজের কাছে অন্যরকম এক প্রশান্তি অনুভব হবে। শরীর থাকবে হৃষ্টপুষ্ট। সুস্থতা অনুভব করবেন ইন শা আল্লাহ্।
তবে একজন মু'মিনের জন্য উচিৎ হলো, উপরোক্ত কাজগুলো করার আগে ও পরে অবশ্যই কিছুক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত করে নেওয়া ‌। প্রয়োজনে দুই পৃষ্ঠা বা এক পৃষ্ঠা‌ । তাও নিয়মিত করুন। আপনি ভেতরে ইচ্ছে রাখেন যে , আমি প্রতিদিন কমপক্ষে এক পৃষ্ঠা তেলাওয়াত করবো, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ করে সূরা ইয়াসিন।